এই সাক্ষাৎকারটি রিজিওনাল সাপোর্ট মেকানিজম EECA প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল স্পার্ক অনুদান কর্মসূচির কয়েকজন অনুদানপ্রাপকের কাজ নিয়ে তৈরি বিশেষ প্রতিবেদনের একটি। গ্লোবাল সাউথজুড়ে পরিচালিত ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভের (DDI) অধীনে, CIVICUS-এর অংশীদারত্বে মেটামরফোসিস ফাউন্ডেশন ও টেকসুপ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। বিষয়বস্তু ভাগাভাগির চুক্তির অংশ হিসেবে এটি গ্লোবাল ভয়েসেসে প্রকাশিত হচ্ছে।
মন্টেনেগ্রো ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) যোগ দেওয়ার পথে রয়েছে; আপাতত লক্ষ্য 2028 সালের মধ্যে তা করা। 2025 সালে জাতিসংঘের ইউরোপবিষয়ক অর্থনৈতিক কমিশনের (UNECE) পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশটি তার পরিবেশবিষয়ক আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং জাতীয় আইনের বড় অংশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্দেশিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।
তবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্ব্যবহারের অত্যন্ত কম হারসহ কিছু সমস্যা এখনও রয়েছে। পুনর্ব্যবহারের হার 2%-এরও কম, যা EU-র 50% লক্ষ্যমাত্রার অনেক নিচে।
EU-মন্টেনেগ্রো স্টেবিলাইজেশন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন পার্লামেন্টারি কমিটির প্রতিনিধিদলের চেয়ার এবং অস্ট্রিয়ার পার্লামেন্ট সদস্য টমাস ভাইৎস (গ্রিনস/EFA) দ্য নিউ ইউনিয়ন পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মন্টেনেগ্রোতে “বিরাট উন্নতি” হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি গত বছরে 100টির বেশি বেআইনি ময়লা ফেলার জায়গা বন্ধ হওয়ার কথা বলেন: “এত ছোট একটি দেশের পক্ষে এটি বিরাট প্রচেষ্টা। কিন্তু তাদের আরও 500টি আছে, আর আমরা যদি আশা করি যে তারা সব কটি পরিষ্কার করে ফেলবে, তা হলে সেটা অসম্ভব হবে।”
মন্টেনেগ্রো কীভাবে লক্ষ্যের আরও কাছে যেতে পারে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে, তা নিয়ে রাজনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি যখন আলোচনা করছে, তখন সাধারণ নাগরিকেরা এখনই পরিস্থিতির উন্নতির জন্য বাস্তব পদক্ষেপ নিচ্ছেন।
ডিজিটাল স্পার্কের এই বিশেষ প্রতিবেদনটি তেমনই একটি সংগঠন একোগার্ড এবং তাদের উদ্যোগে অংশ নিয়ে ধাপে ধাপে মন্টেনেগ্রোকে আরও পরিচ্ছন্ন করার চেষ্টা চালানো বহু মানুষকে নিয়ে।
ডিজিটাল স্পার্ক এবং তাদের জনসম্পৃক্ত উদ্যোগের প্রভাব নিয়ে গ্লোবাল ভয়েসেস সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও মহাপরিচালক সেনাদ পেপিচের সাক্ষাৎকার নিয়েছে।
গ্লোবাল ভয়েসেস (GV): অনুগ্রহ করে আপনাদের সংগঠন সম্পর্কে বলুন এবং কেন ডিজিটাল স্পার্ক প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা জানান।
সেনাদ পেপিচ (SP): একোগার্ড গড়ে উঠেছে অফিসে বসে নয়, বছরের পর বছর মাঠে কাজ করার মাধ্যমে। ‘ওচিস্তিমো রোজায়ে’ উদ্যোগ থেকেই এর বিকাশ। সেখানে আমরা সক্রিয় হতে প্রস্তুত মানুষের একটি শক্তিশালী গোষ্ঠী গড়ে তুলতে 6 বছর কাজ করেছি। বেআইনি ময়লা ফেলার জায়গা নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। তবে ধীরে ধীরে আমাদের কাজ দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলা অন্য পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যাতেও ছড়িয়ে পড়ে।
আমরা পরিচ্ছন্নতা অভিযান আয়োজন করেছি, তরুণদের সঙ্গে কাজ করেছি, প্রচারাভিযান শুরু করেছি এবং বারবার ফিরে আসা সমস্যাগুলির মোকাবিলা করতে বাসিন্দাদের উৎসাহ দিয়েছি।
মাঠে যা শিখেছি, তার সঙ্গে ডিজিটাল সরঞ্জাম ও তথ্যকে যুক্ত করতে চেয়েছিলাম বলেই আমরা ডিজিটাল স্পার্কে যোগ দিই। সমস্যাগুলির আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরা এবং মানুষ এগুলি নিয়ে যেভাবে কথা বলেন, তা বদলানোর আশা ছিল আমাদের। সেই ধারণা থেকেই আমাদের কাজের স্বাভাবিক পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে একোমাপার জন্ম।
GV: আপনাদের এলাকার কোন সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ এই প্রকল্প হাতে নিতে আপনাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল?
SP: বিশেষ করে একটি পরিচ্ছন্নতা অভিযান আমাদের পদ্ধতি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছিল। আমরা একটি গ্রামীণ রাস্তার পাশে বেআইনি ময়লা ফেলার জায়গা পরিষ্কার করেছিলাম। সেই এলাকার বাসিন্দাদের বর্জ্য ফেলার উপযুক্ত কোনও জায়গা ছিল না। নিকটতম বৈধ বর্জ্য ফেলার স্থানটি ছিল প্রায় 6 কিলোমিটার দূরে।
পরিচ্ছন্নতা অভিযানের পর আমরা সেখানে একটি বর্জ্যের কনটেনার বসানোর অনুরোধ করি এবং সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি পাই। 3 বছর কেটে গেলেও কনটেনারটি আর বসানো হয়নি এবং সেখানে আবার ময়লা জমতে শুরু করে।
ময়লা ফেলার জায়গাটি ফিরে আসায় অন্য এলাকার একই ধরনের স্থানগুলিকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও আমাদের বদলে যায়। অন্য এলাকার ছবি, পোস্ট ও চিঠি আমাদের কাছে ছিল। কিন্তু সমস্যাটি কতটা বিস্তৃত বা বর্জ্য সংগ্রহ পরিষেবার ঘাটতির সঙ্গে এর সম্পর্ক কী, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র দেখার কোনও উপায় ছিল না।
আমরা এই জায়গাগুলি মানচিত্রে চিহ্নিত করে প্রতিটি জনবসতির পরিস্থিতি বুঝতে চেয়েছিলাম। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে দেখানো যায় কোথায় বর্জ্য অপসারণ পরিষেবার ঘাটতি রয়েছে এবং কী বদলানো দরকার, তা নিয়ে আলোচনা করা যায়।
GV: প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সময় আপনাদের সংগঠন কী কী প্রধান পরিবর্তন বা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে?
SP: এই প্রকল্পের আগে একোগার্ড পরিচ্ছন্নতা অভিযান আয়োজন করত, তরুণদের সঙ্গে কাজ করত, শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালাত, প্রচারাভিযান করত এবং স্থানীয় সমস্যাগুলির দিকে নজর টানত। ডিজিটাল স্পার্কের মাধ্যমে আমরা মাঠে যা দেখতাম, তা আরও নিয়মিত ও পদ্ধতিগতভাবে সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করতে শুরু করি।
বেআইনি ময়লা ফেলার জায়গার মানচিত্র হিসেবে একোমাপার যাত্রা শুরু হলেও পরে এটি গোটা এলাকার পরিবেশগত পরিস্থিতি বোঝার একটি মাধ্যম হয়ে ওঠে। আমরা প্রতিটি জনবসতি ধরে সেখানকার পরিস্থিতি দেখার সিদ্ধান্ত নিই, যাতে পাওয়া সমস্যাগুলির সঙ্গে বাসিন্দাদের জন্য থাকা পরিষেবাগুলির যোগসূত্র নির্ধারণ করা যায়।
সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে প্রতিটি জনবসতির পরিবেশগত ঝুঁকি এবং স্থানীয় পরিষেবার ঘাটতি যাচাইয়ের জন্য আমরা একটি মডেলও তৈরি করেছি। এটি প্রবণতা শনাক্ত করতে, বিভিন্ন জনবসতির চাহিদা তুলনা করতে এবং তথ্য কী দেখাচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে আলোচনা করতে আমাদের সাহায্য করে।
GV: প্রকল্পে আপনাদের অংশগ্রহণের ফলে আপনাদের সংগঠনের সুবিধাভোগী এবং যে জনগোষ্ঠীর জন্য আপনারা কাজ করেন, তাঁদের ওপর কী প্রভাব পড়েছে? অনুগ্রহ করে উদাহরণ দিন।
SP: আমাদের কর্মীদের হাতে এখন একটি ব্যবহারিক মাধ্যম রয়েছে এবং তাঁরা যা খুঁজে পান, তা নথিভুক্ত করার আরও স্পষ্ট পদ্ধতি পেয়েছেন। জনসচেতনতামূলক প্রচারে আমরা সেই তথ্য ব্যবহার করতে পারি এবং পরিবর্তনের পক্ষে আরও জোরালো যুক্তি তুলে ধরতে পারি।
বাসিন্দারা যে সমস্যার মুখোমুখি হন, তার সঙ্গে তাঁদের জনবসতিতে থাকা পরিষেবাগুলির সম্পর্ক কী, তা এখন আমরা তাঁদের দেখাতে পারি।
অন্য শহর ও দেশের সংগঠনগুলিও নিজেদের এলাকার পরিস্থিতি বুঝতে এবং সমাধান খোঁজার কাজে বাসিন্দাদের যুক্ত করতে এই মাধ্যম ব্যবহারে আগ্রহ দেখিয়েছে।
স্থানীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থাও স্বীকার করেছে যে এই তথ্য তাদের কাজে উপযোগী হতে পারে। আপাতত সবচেয়ে স্পষ্ট পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে আমাদের কর্মীদের কাজের ধরনে এবং অন্য সংগঠন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে শুরু হওয়া আলোচনায়। বাস্তবে পরিবর্তন আসতে আরও সময় লাগবে।
GV: প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ফলে ডিজিটাল গণতন্ত্র ও নাগরিক পরিসর সম্পর্কে আপনার নিজের জ্ঞান, সচেতনতা ও অভিজ্ঞতা কীভাবে বদলেছে?
SP: প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা শিখেছি, মানুষকে কোনও সমস্যা জানানোর সুযোগ দেওয়া কেবল প্রথম পদক্ষেপ। আমরা কেন তথ্য সংগ্রহ করছি, তা দিয়ে কী করব এবং সেটি কীভাবে পরিবর্তন আনতে পারে—সেটাও তাঁদের জানা দরকার।
মানুষের কাছে কীভাবে পৌঁছাতে হয় এবং আরও স্পষ্টভাবে যোগাযোগ করতে হয়, সেই প্রশিক্ষণটি বিশেষভাবে উপযোগী ছিল। আমরা কী শব্দ ব্যবহার করি এবং মানুষকে অসহায় বোধ না করিয়ে কীভাবে সমস্যা নিয়ে কথা বলা যায়, তা নিয়ে এটি আমাদের ভাবিয়েছে।
আমাদের কাছে ডিজিটাল গণতন্ত্রের অর্থ হল, বাসিন্দারা সমস্যা চিহ্নিত করতে এবং সমাধান খোঁজায় অংশ নিতে পারেন। তাঁরা যা বলেন, তা আমরা সংগ্রহ করে যাচাই করি এবং স্পষ্টভাবে তুলে ধরি। এতে আমাদের প্রচারাভিযান ও প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এটি আমাদের আরও স্পষ্ট উত্তর চাইতেও সাহায্য করে।
GV: এই প্রকল্প থেকে পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কী?
SP: সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা হল, প্রযুক্তি একা কোনও সমস্যার সমাধান করতে পারে না। গোটা এলাকায় কী ঘটছে, তা দেখতে এটি আমাদের সাহায্য করতে পারে। কিন্তু মাঠের কাজ, বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলা বা প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে কাজ করার বিকল্প হতে পারে না।
মানচিত্রে কোনও সমস্যা খুঁজে পাওয়া কেবল শুরু। কেন সেটি ঘটেছে, তাও আমাদের বুঝতে হবে। আমরা যদি কেবল চোখে দেখা বিষয়টুকু সামলাই, তা হলে একই সমস্যা আবার ফিরে আসার আশঙ্কা রয়েছে।
তথ্যের সঙ্গে মানুষের অভিজ্ঞতা যুক্ত করলে আমরা তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী সমাধানের প্রস্তাব দিতে শুরু করতে পারি। ভবিষ্যতের কাজে আমরা এই শিক্ষাই কাজে লাগাব: মানুষের কথা শুনব, ধরন ও কারণ খুঁজব এবং যা শিখব তা দিয়ে পরিবর্তনের দাবি তুলব।
GV: এর পর কী? আপনারা যে শিক্ষা ও ডিজিটাল সক্ষমতা অর্জন করেছেন, তা ভবিষ্যতের কাজে এবং নিজেদের এলাকায় কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
SP: আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হল স্থানীয় সরকারের কাছে অনুসন্ধানের ফল তুলে ধরা এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও অন্য স্থানীয় পরিষেবার আরও ভালো পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দেওয়া। বছরের পর বছর উপেক্ষিত জনবসতিগুলির দিকে আমরা নজর টানতে চাই এবং প্রতিষ্ঠানগুলি কীভাবে সাড়া দেয়, তার খোঁজ রাখতে চাই।
আমরা যা শিখেছি, তা ইতিমধ্যেই একোগার্ডের বৃহত্তর কাজে প্রয়োগ করছি—বিশেষ করে আমাদের প্রচারাভিযানে এবং বাসিন্দাদের যুক্ত করার পদ্ধতিতে। মন্টেনেগ্রোর অন্য সংগঠনগুলির সঙ্গে মিলে আমরা একটি ‘ন্যাশনাল ইকো লাইন’ প্রতিষ্ঠার প্রচারাভিযান প্রস্তুত করছি। এটি হবে পরিবেশগত সমস্যার কথা জানানো এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কীভাবে সাড়া দেয়, তার খোঁজ রাখার জন্য দেশজুড়ে একটি যোগাযোগমাধ্যম।
আমরা জানি, ফল পেতে সময় লাগতে পারে। তাই অন্য সংগঠন ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।
