এই সাক্ষাৎকারটি রিজিওনাল সাপোর্ট মেকানিজম EECA প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল স্পার্ক অনুদান কর্মসূচির কয়েকজন অনুদানপ্রাপকের কাজ নিয়ে তৈরি ধারাবাহিক প্রতিবেদনের অংশ। গ্লোবাল সাউথজুড়ে পরিচালিত ডিজিটাল ডেমোক্রেসি ইনিশিয়েটিভের (DDI) অধীনে, CIVICUS-এর সহযোগিতায় মেটামরফোসিস ফাউন্ডেশন ও টেকসুপ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বিষয়বস্তু ভাগাভাগির একটি চুক্তির আওতায় এটি গ্লোবাল ভয়েসেসে প্রকাশিত হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তন, জ্বালানির ঘাটতি ও দুর্বল শাসনের কারণে কাজাখস্তানের গ্রামীণ এলাকার নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছেন। জলসংকটের বড় বোঝা তাঁদেরই বহন করতে হয়। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে সমস্যাটি সবচেয়ে তীব্র। সেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব, কৃষির ওপর অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং পুরোনো সেচ পরিকাঠামোর কারণে জল নষ্ট হওয়া এই সংকটকে আরও বাড়িয়েছে।
দক্ষিণের জাম্বিল অঞ্চলে অবস্থিত কিজিলসাই গ্রামে জলসংকট নারীদের দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করা বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে। সংসার, বাগান ও পশুপালনের জন্য জল জোগাড় করতে তাঁদের প্রতিদিন বাড়ির বাইরে কয়েক ঘণ্টা কাটাতে হয়। তাঁদের এই কঠিন পরিশ্রম প্রায়ই কারও নজরে আসে না এবং এর জন্য তাঁরা কোনও পারিশ্রমিকও পান না। ভৌগোলিকভাবে প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসের কারণে তথ্য ও সরকারি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগও সীমিত, যা তাঁদের পরিস্থিতি আরও কঠিন করে তোলে।
2026 সালে স্থানীয় সমাজকর্মী নাজগুল আইদাবোসিনোভা স্থানীয় নারীদের জীবিকা উন্নত করতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেন। এই প্রকল্পে তাঁদের শেখানো হয় কীভাবে আরও কার্যকর ও দক্ষভাবে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়, নিজেদের শ্রম ও পণ্যের খরচ হিসাব করতে হয় এবং এলাকার সমস্যার সমাধানে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হয়। তাঁর উদ্যোগ সম্পর্কে আরও জানতে গ্লোবাল ভয়েসেস ইমেলের মাধ্যমে আইদাবোসিনোভার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। স্পষ্টতা ও সংক্ষিপ্ততার জন্য সাক্ষাৎকারটি সম্পাদনা করা হয়েছে।
গ্লোবাল ভয়েসেস (GV): আপনার সংগঠন সম্পর্কে বলুন এবং কেন ডিজিটাল স্পার্কস প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?
নাজগুল আইদাবোসিনোভা (NA): আমি কিজিলসাইয়ের গ্রামীণ নারীদের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি এলাকাভিত্তিক উদ্যোগের প্রতিনিধিত্ব করি। যেসব নারী সংসার, ছোট খামার, গবাদি পশু ও পরিচর্যার দায়িত্ব সামলান, তাঁদের সহায়তা করাই আমাদের কাজের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তাঁদের তথ্য, সরকারি পরিষেবা ও নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগও সীমিত।
আমরা ডিজিটাল স্পার্কস প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, কারণ ডিজিটাল সরঞ্জাম নারীদের দৈনন্দিন জীবনে সরাসরি ও বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। অনেক নারীর কাছেই ইতিমধ্যে স্মার্টফোন ছিল, তবে আগে তাঁরা মূলত ফোন করা ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারের জন্যই সেগুলি কাজে লাগাতেন।
এই প্রকল্প সেই ফোনগুলিকে ই-গভ পরিষেবা পাওয়া, এলাকার সমস্যার নথি তৈরি, খামার ও সংসারের দায়িত্ব সামলানো, ডিজিটাল নিরাপত্তা রক্ষা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করেছে।
GV: আপনাদের এলাকার কোন সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ আপনাকে এই প্রকল্প হাতে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছিল?
NA: কিজিলসাইয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে জল না পাওয়াই প্রধান চ্যালেঞ্জ। দিনের বেলায় প্রায়ই পাইপে জল থাকে না, বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে। এতে বাগান, গবাদি পশু, সংসারের কাজ এবং পরিবারের স্বাস্থ্য ও ভালো থাকা প্রভাবিত হয়।
এই বোঝা তুলনামূলকভাবে নারীদের ওপরই বেশি পড়ে। জল ধরে রাখার জন্য তাঁরা ভোরে ওঠেন, সংসার ও কৃষিকাজের প্রয়োজনে জল বয়ে আনেন, গবাদি পশুর দেখাশোনা করেন এবং সেচের পালার জন্য অপেক্ষা করেন। এই কাজের বড় অংশের জন্য কোনও পারিশ্রমিক মেলে না, এতে অনেক সময় লাগে এবং খুব কম ক্ষেত্রেই এর স্বীকৃতি পাওয়া যায়।
জলের সমস্যা জানানোর ক্ষেত্রেও নারীরা বাধার মুখে পড়তেন। কী ঘটছে, তা তাঁরা জানতেন; কিন্তু স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলির কাছে কার্যকরভাবে উদ্বেগ তুলে ধরার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রমাণ ও আত্মবিশ্বাস তাঁদের প্রায়ই ছিল না।
GV: প্রকল্পে অংশ নেওয়ার সময় আপনাদের সংগঠন প্রধান কোন কোন পরিবর্তন এনেছে বা কাজ করেছে?
NA: প্রকল্পের মাধ্যমে 10 জন গ্রামীণ নারীকে নিয়ে 4টি ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ অধিবেশন করা হয়।
প্রথম অধিবেশনের শিরোনাম ছিল, “আপনার ফোন শুধু হোয়াটসঅ্যাপ নয়: সংসারের সহকারী হিসেবে স্মার্টফোন”। এতে তাঁদের স্মার্টফোনের রিমাইন্ডার, খামার ও গবাদি পশুর কাজের ছবিভিত্তিক ডায়েরি, ই-গভ পরিষেবা, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রাথমিক পদ্ধতি ব্যবহার করতে শেখানো হয়।
দ্বিতীয় কর্মশালার শিরোনাম ছিল, “স্মার্ট জল: যখন আপনার বাগান জানায় যে তার তেষ্টা পেয়েছে”। এতে অংশগ্রহণকারীরা জলের অধিকার, সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব এবং সময় ও GPS অবস্থান-চিহ্নযুক্ত ছবি ব্যবহার করে জল সরবরাহের মানচিত্র তৈরির বিষয়ে শেখেন।
তৃতীয় অধিবেশনের শিরোনাম ছিল, “সংখ্যা মিথ্যা বলে না: সবকিছুর হিসাব রাখলে আয় বাড়ে”। এতে বিনা পারিশ্রমিকের কাজের হিসাব রাখা এবং দুধের মতো কৃষিপণ্য উৎপাদনের প্রকৃত খরচ নির্ধারণের পদ্ধতি শেখানো হয়। স্মার্ট সেচের মাধ্যমে সময় বাঁচানোর অর্থনৈতিক মূল্য নিয়েও আলোচনা হয়।
চতুর্থ ও শেষ অধিবেশন “সৎ সমঝোতা: প্রযুক্তি যখন একে অপরকে বিশ্বাস করতে সাহায্য করে”-তে অংশগ্রহণকারীরা কত সময়ে কত আয় হতে পারে তার পরিকল্পনা তৈরি করেন, স্থানীয় সহায়তা-ব্যবস্থার মানচিত্র বানান, সহকর্মীদের পরামর্শ দেওয়া নিয়ে আলোচনা করেন এবং জলসংক্রান্ত দাবি সম্মিলিতভাবে তুলে ধরা ও সবার ব্যবহারের জন্য স্মার্ট সেচের পরিকাঠামো গড়ার লক্ষ্যে সমবায়ভিত্তিক উদ্যোগ শুরু করতে সম্মত হন।
GV: প্রকল্পে আপনাদের অংশগ্রহণের ফলে আপনাদের সংগঠনের সুবিধাভোগী এবং যে এলাকার জন্য আপনারা কাজ করেন, তাদের ওপর কী প্রভাব পড়েছে? অনুগ্রহ করে উদাহরণ দিন।
NA: প্রকল্পটি অংশগ্রহণকারী নারীদের বুঝতে সাহায্য করেছে যে স্মার্টফোন শুধু যোগাযোগের যন্ত্র নয়; স্বাধীনতা, নাগরিক অংশগ্রহণ ও বাস্তব সমস্যা সমাধানের সরঞ্জামও।
উদাহরণ হিসেবে, নারীরা শিখেছেন যে ই-গভ পরিষেবা ব্যবহার করে তাঁরা নির্দিষ্ট কিছু সরকারি নথির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। এতে প্রশাসনিক দপ্তরে যাতায়াতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন কমে।
জলের সমস্যার সুসংগঠিত প্রমাণ তৈরি করতেও তাঁরা শিখেছেন। শুকিয়ে যাওয়া খাল, ভাঙা পাইপ বা দূষিত জলের উৎসের কোনও ছবির সঙ্গে তারিখ, স্থান ও লিখিত বিবরণ থাকলে দাবি তুলে ধরার ক্ষেত্রে সেটি আরও কার্যকর হয়।
বিনা পারিশ্রমিকের শ্রম ও উৎপাদন খরচবিষয়ক প্রশিক্ষণটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের সময়ের মূল্য হিসাব করেছেন এবং দুধ উৎপাদন ও সেচের কাজের প্রকৃত খরচ আরও ভালোভাবে বুঝেছেন। আলোচনায় দেখা যায়, হাতে সেচের কাজে মাসে 60 ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এতে অংশগ্রহণকারীরা বুঝতে পেরেছেন যে তাঁদের সময়ের অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে এবং সবার জন্য যৌথ স্মার্ট সেচব্যবস্থা গড়ে উঠলে আয়, শিক্ষা, বিশ্রাম ও এলাকার কাজে অংশগ্রহণের জন্য আরও সময় পাওয়া যেতে পারে।
দলটি একে অপরের কাছ থেকে শেখার প্রক্রিয়াও শুরু করেছে। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান প্রতিবেশী নারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিতে শুরু করেছেন 3 জন অংশগ্রহণকারী।
GV: প্রকল্পে অংশ নেওয়ার ফলে ডিজিটাল গণতন্ত্র ও নাগরিক পরিসর সম্পর্কে আপনার নিজের জ্ঞান, সচেতনতা ও অভিজ্ঞতায় কী পরিবর্তন এসেছে?
NA: ডিজিটাল গণতন্ত্র সম্পর্কে আমার ধারণা এখন অনেক বেশি বাস্তবমুখী হয়েছে। এই প্রকল্পের আগে ডিজিটাল সরঞ্জামকে মূলত যোগাযোগ বা তথ্য পাওয়ার মাধ্যম হিসেবেই দেখা যেত।
ডিজিটাল স্পার্কসের মাধ্যমে আমি দেখেছি, ডিজিটাল সরঞ্জাম কীভাবে মানুষের অধিকার প্রয়োগ, সরকারি পরিষেবা পাওয়া, প্রমাণ সংগ্রহ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সম্মিলিতভাবে সংগঠিত হওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারে।
ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, নারীদের বিনা পারিশ্রমিকের শ্রম, জলবায়ুসংক্রান্ত জল সমস্যা ও নাগরিক পরিসরের মধ্যে সম্পর্কও আমি আরও ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি।
গ্রামীণ নারীদের ক্ষেত্রে ডিজিটাল সক্ষমতা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিষয় নয়। এর অর্থ নিজের কথা বলার সুযোগ থাকা, সমস্যার নথি তৈরি করতে পারা, নিজের অধিকার বোঝা এবং পরিবার ও এলাকার ওপর প্রভাব ফেলা সিদ্ধান্তগুলিতে অংশ নেওয়া।
GV: এই প্রকল্প থেকে পাওয়া সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কী?
NA: সবচেয়ে মূল্যবান শিক্ষা হল, ডিজিটাল সাক্ষরতার সঙ্গে মানুষের বাস্তব ও দৈনন্দিন প্রয়োজনের সরাসরি যোগ থাকলেই তার প্রভাব সবচেয়ে বেশি হয়। কিজিলসাইয়ে জলসংকট, কৃষিকাজ, বিনা পারিশ্রমিকে পরিচর্যার দায়িত্ব এবং সরকারি পরিষেবা পাওয়ার প্রয়োজনই ডিজিটাল সরঞ্জামগুলিকে প্রাসঙ্গিক ও উপযোগী করে তুলেছিল।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল, নারীদের শুধু তথ্য নয়, আত্মবিশ্বাস ও সম্মিলিত সহায়তাও প্রয়োজন। অংশগ্রহণকারীরা যখন নিজেদের অধিকার বুঝেছেন, শ্রমের মূল্য হিসাব করেছেন এবং নির্ভরযোগ্য প্রমাণ তৈরি করতে শিখেছেন, তখন তাঁরা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা ও একসঙ্গে কাজ করার জন্য আরও প্রস্তুত হয়ে উঠেছেন।
এই প্রকল্প একে অপরের কাছ থেকে শেখার গুরুত্বও দেখিয়েছে। একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া নিজেদের এলাকার নারীদের ওপর অংশগ্রহণকারীদের আস্থা রাখার এবং তাঁদের কাছ থেকে শেখার সম্ভাবনা বেশি।
GV: এর পরে কী হবে? অর্জিত শিক্ষা ও ডিজিটাল সক্ষমতা ভবিষ্যতের কাজে এবং নিজেদের এলাকায় কীভাবে প্রয়োগ করবেন?
NA: আমরা পর্যায়ক্রমে অন্যদের শেখানোর এই মডেল চালিয়ে যাব। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অংশগ্রহণকারীরা কিজিলসাইয়ের অন্য নারীদের স্মার্টফোন ও ই-গভ ব্যবহারের প্রাথমিক পদ্ধতি, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রমাণ নথিবদ্ধ করার দক্ষতা শেখাবেন।
গ্রামের জলসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দলটি সমবায়ভিত্তিক পদ্ধতি গড়ে তুলতে চায়। পরিকল্পিত সমবায়টি সম্মিলিতভাবে দাবি তুলে ধরা, একসঙ্গে শেখা এবং স্মার্ট কূপ বা সবার ব্যবহারের সেচ পরিকাঠামোর জন্য অর্থায়নের সুযোগ খোঁজার কাজে সহায়তা করবে।
ভবিষ্যতের কাজেও আমরা ডিজিটাল দক্ষতার সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা ও স্থানীয় নাগরিক অংশগ্রহণকে যুক্ত করে যাব, যাতে গ্রামীণ নারীদের কাজ, জ্ঞান ও প্রয়োজন আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।
